January 20, 2022

মুক্ত বাংলা সংবাদ

সবার আগে সঠিক খবর

বরিশালে সিলগালার পরও ফের নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবে রোগীদের সাথে ভয়াবহ প্রতারণা

বরিশাল সদর উপজেলার ৫নং চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর বাজারে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদনহীন নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবে চরমভাবে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জীবন বাঁচাতে গ্রামের সহজসরল রোগীরা অন্ধ বিশ্বাসে সেখানে গিয়ে পদে পদে ঠকছেন। একদিকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে পাহাড় সমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অপরদিকে সেই পরীক্ষায়ও অবিশ্বাস্য প্রতারণা হয় এখানে। কাগজপত্রবিহীন এ নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবে রোগীদের পরীক্ষার রিপোর্ট দিচ্ছে ভুয়া চিকিৎসক, টেকনিশিয়ানরা। এছাড়াও বিভিন্ন ডাক্তারের প্যাড ব্যবহার করে তাদের স্বাক্ষর জাল করে রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ মিলেছে এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখাগেছে, নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবের সাইনবোর্ডে ডা মোঃ রফিকুল ইসলাম, ডাঃ নুসরাত ইসলাম, ডাঃ জেরিন খান নিয়মিত বসে রোগী দেখেন এমন সাইনবোর্ড সাটানো থাকলেও নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবে একজন ডাক্তারের অস্বস্তি মেলেনি।

উল্লেখ থাকে যে, এ বছরের জানুয়ারি মাসে বরিশাল সিভিল সার্জন মনোয়ার হোসেনের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবটি সিলগালা করেছিল দিয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফের সেন্টারের মালিক বরিশাল নগরীর কাউনিয়ার সাদুর বটতলার বাসিন্দা শশুরবাড়ি বুখাইনগরে ঘাটিগেরে রিয়াজ হোসেন ওরফে রাজিব অনুমোদনহীন এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি চালু করে প্রতারণার করে যাচ্ছে রোগীদের সাথে।

এবিষয়ে সেন্টারের মালিক রিয়াজ বলেন, আমার ডায়াগনস্টিকের কাগজপত্র করার জন্য সংশ্লিস্ট দপ্তরে দপ্তরে আবেদন করেছি অনেক আগেই। হয়তো ২/১ সপ্তাহের মধ্যেই সকল কাগজপত্র হাতে পাব বলে আশাকরি।

বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানায়, নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাব প্রতারনার দোকান। এটার কোন অনুমতি নেই। তবুও বছরের পর বছর ধরে এটি চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াজ।

তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, পেপারে টিভিতে দেখি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রশাসন অভিযান করে ব্যবস্থা দিচ্ছে কিন্তু বুখাইনগর বাজারের নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবটি বছরের পর বছর ধরে প্রতারনা করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। কেন বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের টনক নড়েছে না এমন প্রশ্ন তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবে বসে না কোন ডাক্তার, নেই টেকনিশিয়ান, নেই যন্ত্রপাতি। যখন রোগী আসে তখন সেন্টারের মালিক রিয়াজ নিজেই সেবাপ্রার্থীদের ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে একগাধা পরীক্ষা নিরিক্ষা দেয়। যার রিপোর্ট দিচ্ছে ভুয়া চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও মালিক রিয়াজ নিজেই এবং তার সেন্টারের রিসিপসোনিস্ট।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বুখাইনগর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, রিয়াজের মালিকানাধীন নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাব দালালনির্ভর চিকিৎসা সেন্টার। এছাড়াও গ্রামের অসচেতন মানুষরাও নিজের ইচ্ছায় অখ্যাত এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে এসে নিঃস্ব হচ্ছে। এখানে ডাক্তার নেই, টেকনিশিয়ান নেই, অথচ চিকিৎসা সেন্টার দিয়ে বসেছে ফার্মেসি মালিক রিয়াজ।

স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ কেন অনুমোদনহীন নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবটি বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা আমরা বুঝি না। মনে হয় এখান থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ পার্সেন্টিজ পাচ্ছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, উক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ঠিকানা আমাকে এসএমএস করে দেন। আগামীকাল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। নিউ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবের মালিক রিয়াজ বলেন, মাঝে মধ্যে পরিচিত মানুষজন আসলে ডাক্তারদের ফোন করে আনা হয়। তখন তারাই রোগী দেখেন। কাগজপত্র পেতে আবেদন করেছি। এখনও হাতে পায়নি। আমার এখানে যা রিপোর্ট করা হয় তা সঠিক। আমার শত্রুরা এসব বলে বেড়ায় আপনাদের কাছে।