January 20, 2022

মুক্ত বাংলা সংবাদ

সবার আগে সঠিক খবর

বরিশালে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মা পেলো না শহীদ স্বীকৃতি আর ছেলে পেলো না মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

মহান মুক্তিযুদ্ধে যদি ৩০ লক্ষ শহীদ হন তাহলে ১৯৭১ সালের ৩০ শে নভেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে নির্মম নিষ্ঠূরতার শিকার হয়ে নিহত রাবেয়া খাতুনও শহীদ হওয়ার কথা। কিন্তু বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের চর আইচা গ্রামের হাজী কাসেম আলী খান এর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও পেলো না শহীদ সীকৃতি আর তার ছেলে আব্দুর রব খান একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও পেল না মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শহীদ রাবেয়া খাতুনের ছেলে আব্দুর রব খান একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানী সেনা বাহিনীতে চাকরীরত ছিলেন। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তার এলাকায় এসে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রন করেন। আব্দুল রব খান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত সৈনিক থাকার কারণে সে সরাসরি মৃত বেইজ কমান্ডার আব্দুল মান্নান হাওলাদারের অধীনে বিভিন্ন অপারেশনে যোগদান করেন এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেন। একরাতে রাজাকারদের মদদে পাকিস্তানী বাহিনীরা আব্দুল রব খানের বাড়ি অভিযান চালায় তাকে ধরার জন্য কিন্তু ভাগ্য ক্রমে বেঁচে গেলেও পাকহানাদার বাহিনীরা ওই রাতে তার মাতা রাবেয়া খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে। এমন আত্মত্যাগ মায়ের জন্য দেশের জন্য স্বার্থ ছাড়া যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে এই দেশকে স্বাধীন করে ছিল মুক্তিযোদ্ধারা। অথচ স্বাধীনতার ৫০ বছরেও বরিশালের রাবেয়া খাতুন পেলো না শহীদ সীকৃতি আর ছেলে আব্দুর রব খান পেলো না মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননা।আব্দুর রব খান বরিশাল ক্রাইম নিউজকে জানান, ১৯৯১ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য তিনি (আব্দুর রব খান) আবেদন করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত স্বাধীনতার পরবর্তী সময় তিনি বেশ কিছু বছর কুয়েতে চাকুরীর সুবাদে অবস্থান করেন এবং ১৯৯১ সালে ইরাক কুয়েত যুদ্ধের সময় তাহার মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সনদসহ অন্যান্য কাগজাদী রেখে জীবন বাঁচাতে এক কাপড়ে কুয়েত ত্যাগ করেন। সে প্রমাণ হিসাবে তাহার পাসপোর্ট এবং ভিসা ও সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া তার সহ যোদ্ধারা লিখিত ভাবে প্রত্যয়ণ পত্র দিয়েছেন যাহা মুক্তিযোদ্ধা গেজেটের আবেদনের সাথে সংযুক্ত।আব্দুর রব খান সরেজমিনে তদন্তের জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন। পাশাপাশি তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন। সর্বশেষ তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।উল্লেখ্য, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এস, এম মোফাজ্জেল হোসেন সে বাড়িতে থাকাকালীন পাকবাহিনীর হাতে আহত হন। এবং অত্র এলাকায় সবাই জানে আব্দুর রব খান একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাহার মাতা মরহুমা শহীদ রাবেয়া খাতুন একজন সত্যিকারের শহীদ।