December 4, 2021

মুক্ত বাংলা সংবাদ

সবার আগে সঠিক খবর

মন্দা কি আসন্ন? আমরা প্রস্তুত তো?

বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক ঝাঁকুনি দিয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এমনটা চলতে থাকলে সৃষ্টি হতে পারে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। কারণ সারা পৃথিবীতেই একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পর্যটন স্পটগুলো, বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ, শেয়ার বাজারে ধস নামছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে তেলের মূল্য। বাড়ছে বেকারত্ব, আর তাই স্বাভাবিকভাবেই কমছে ক্রয়ক্ষমতা।

বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ক্রয়াদেশ বাতিলের মুখে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিত্যপণ্য ও ওষুধ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের তেমন কোনো ক্রেতা থাকবে না। ১০ এপ্রিল সবকিছু খুলবে কি না, সেটাও এখনই সঠিক বলার উপায় নাই। সব মিলিয়ে ব্যবসা বড় ধরনের সংকটে পড়ে গেছে।

এতে বিপাকে বেসরকারি খাতের শ্রমিক–চাকরিজীবী, ছোট ব্যবসায়ী, হকার, রিকশা–অটোরিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষেরা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু এখন ভালো আয় করতে পারবে না, সেহেতু বেতন বিলম্বে হতে পারে। কেউ কেউ বিনা বেতনে বাধ্যতামূলক ছুটির মুখেও পড়তে পারেন। কেউ কেউ চাকরি হারাতে পারেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

২০০৭ ও ২০০৮ সালে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক মন্দা হয়েছিল, তাতে বহু প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়েছিল। বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা হয়েছিল ১৯২৯ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত, যাকে মহামন্দা বলে। আরেকটি মন্দার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। তাতে ঘি ঢালছিল মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ। এবার করোনাভাইরাস এসে আগুন জ্বালিয়ে দিল। আগামী কয়েক মাসে করোনাভাইরাস হয়তো নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে, কিছু অর্থনৈতিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী, যা দেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও একই কথা বলছে। যেমন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাবে করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে আড়াই কোটি মানুষ কাজ হারাতে পারে।

মন্দা মোকাবেলায় বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে খরচ কমানো যায় কীভাবে

মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আমার দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংসারে যিনি রোজগার করেন, তিনিই নিজের স্বাচ্ছন্দ্য কমিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে ফেলেন। যেমন পরিচিত এক ব্যক্তি অফিসে যাওয়ার পথে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া শুরু করেছেন। এতে তাঁর ব্যয় কমবে ১ হাজার ৪০ টাকা। একজন তিন কক্ষের বাসা ছেড়ে দুই কক্ষের বাসা নিয়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা বাঁচিয়েছেন। এসব অবশ্য মন্দার কারণে নয়, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে। মন্দাকালে কৌশলগুলো খারাপ হবে না।

এ সময়ে কোনোভাবেই বাজে খরচ করবেন না। পুরোনো হয়ে গেলেও রেফ্রিজারেটরটি আরও কিছুদিন ব্যবহার করুন। নতুন মডেলের মুঠোফোনের দিকে নজর দেবেন না। জুতা-জামা না কিনলে ভালো। খরচ বাঁচাতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) চালানো বন্ধ রাখতে পারেন, কফি খাওয়া বাদ দিতে পারেন, বাইরে খাওয়া বাদ দিতে পারেন। বাজার খরচ কমিয়ে ফেলাটা সহজ নয়। তবু চেষ্টা করতেই হবে।

আপনার চাকরি-রোজগারের বিষয়ে স্ত্রী/স্বামী, সন্তানদের জানান। তাদেরও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে উৎসাহিত করুন। পরিবার যদি পাশে থাকে, কোনো সংকটই আসলে সংকট নয়।

অর্থনীতি ডেস্ক/মুক্তবাংলা সংবাদ